ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী করিম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একধরনের বার্তা আসছে। তবে বার্তাগুলো সরাসরি কোথা থেকে বা কীভাবে আসছে, তা প্রকাশ করেননি তিনি।

করিম ঘারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে আগে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কিছু বিষয় মীমাংসা করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও একটি সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এটা খুব শিগগিরই শেষ হবে।” একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তিও খুব কাছাকাছি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলেও স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কিছু শক্তিশালী অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কম।

এদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যে ইরানের পার্লামেন্টে একটি খসড়া আইন নিয়েও আলোচনা চলছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন একদিকে সামরিক হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

এরই মধ্যে কিরমান প্রদেশে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক ইঙ্গিত মিললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইরান ও ওমানের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি সাময়িক সমঝোতার খসড়া নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।