পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে চিনের ধারাবাহিক আগ্রাসন এবং উসকানিমূলক পদক্ষেপের কড়া ও কৌশলগত জবাব দিল নয়াদিল্লি। ম্যাকমোহন লাইনের এপারে চিনের নামবদল নীতির পালটা পদক্ষেপ হিসেবে এবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন চিন অধিকৃত তিব্বতের ২৭টি জায়গার নাম পরিবর্তন করল ভারত। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চিহ্নিত করা এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল স্থানগুলির সহজে স্বীকৃতি প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

নতুন নামকরণের তালিকায় থাকা ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ এবং সুবানসিরি জেলার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সীমান্ত গ্রাম লংজু, মাজা ও বিসা।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সাল থেকে বিতর্কিত ‘লংজু’ গ্রামটি চিনের দখলে থাকলেও ভারত চিরকাল এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এসেছে। এছাড়াও ম্যাকমোহন লাইন বরাবর জোলা, রিজালা এবং পুকুর লা-এর মতো তিনটি গিরিপথ এবং তাওয়াং জেলার সীমান্তে ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র থাগ লা গিরিপথ এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই এলাকাগুলি আগে থেকেই ভারতের ১৯৬২ সালের পুরনো সামরিক মানচিত্রে চিহ্নিত ছিল।

নিজেদের অধিকার কায়েম করতে গত কয়েক বছর ধরেই অরুণাচলের বিভিন্ন অংশের অবৈধ নামকরণ করে আসছিল বেজিং। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভারতের চরম আপত্তি উপেক্ষা করে এলএসি সংলগ্ন আবাসিক এলাকা, পাহাড় ও নদী মিলিয়ে মোট ৩০টি এলাকার নাম বদলেছিল চিন। বেজিংয়ের সেই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার সরাসরি পালটা দিয়ে এবার কূটনৈতিক ও মানচিত্রগত অধিকারের লড়াইয়ে চরম কড়া বার্তা দিল ভারত সরকার।