পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাম মন্দিরের চাঁদা চুরির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা যত বেশি সরব হবে, রাজনৈতিকভাবে ততই লাভবান হবে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এমনই কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করলে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকদের আয় হ্রাস বা প্রশ্নফাঁসের মতো জ্বলন্ত বিষয়গুলি থেকে সাধারণ মানুষের নজর সহজেই ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিন্দুত্ব এবং জাতীয়তাবাদ বিজেপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার।

রাম মন্দির বা অযোধ্যা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আক্রমণ শানানো মানে বিজেপিকে তাদের নিজেদের চেনা জমিতেই খেলতে দেওয়া। এমনিতেই চাঁদা চুরির বিষয়টি অযোধ্যা ও সংলগ্ন কিছু এলাকা ছাড়া উত্তরপ্রদেশের অন্য প্রান্তে তেমন দাগ কাটতে পারেনি। উলটে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলিকে তুলে ধরে যোগী সরকার প্রমাণ করতে চাইবে যে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

বিহার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে একাংশের মত, সেখানেও কর্মসংস্থান বা মূল্যবৃদ্ধির বদলে ভোটচুরির মতো বিষয়কে সামনে আনায় লড়াইয়ের মূল ফোকাস হারিয়েছিল বিরোধীরা। বর্তমানে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টি বিজেপিকে কিছুটা চাপে রাখলেও, রাম মন্দির ইস্যু সেই অস্বস্তি কাটাতে সাহায্য করতে পারে। গেরুয়া শিবির চাইছে বিরোধীরা এই মন্দির বিতর্ক নিয়েই মেতে থাকুক, যাতে গত দশ বছরে সরকারের খামতিগুলি ঢাকা পড়ে যায়। এখন দেখার, আসন্ন নির্বাচনে বিরোধীরা বিজেপির এই ফাঁদে পা দেয়, নাকি জনজীবনের মূল সমস্যাগুলিকেই হাতিয়ার করে ময়দানে নামে।