পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, ইউরোপজুড়ে দাবানলের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরনো কানাডায়ার জলবোমারু বিমানের বিকল্প তৈরিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিভিন্ন সংস্থা। চলতি বছরেই মহাদেশটির প্রায় ৫ লাখ হেক্টর বনভূমি ও জমি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন বিমান তৈরি এবং পুরনো উড়োজাহাজকে আধুনিক জলবোমারু বিমান হিসেবে রূপান্তরের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের টুলুজে অবস্থিত পজিটিভ এভিয়েশন (Positive Aviation) একটি পুরনো এটিআর-৭২ (ATR-72) উড়োজাহাজের কাঠামো ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক মডেল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ ভাসমান কাঠামোর মাধ্যমে হ্রদ বা সমুদ্র থেকে পানি সংগ্রহ করে এই বিমানে প্রায় ৮ টন পানি বহন করা সম্ভব হবে। ২০২৮ সালে পরিষেবা শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজার অ্যারোস্পেস (Bridger Aerospace)-এর কাছ থেকে ১০টি বিমানের প্রাথমিক অর্ডার পেয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের আরেকটি প্রতিষ্ঠান কেপলেয়ার (Kepplair) পুরনো ড্যাশ-৮ (Dash-8) বিমানের বিকল্প হিসেবে সরাসরি মাটিতে পানি ভরা যায় এমন একটি বিমান তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে, যা আগামী বছর থেকেই সরবরাহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা।

নতুন বিমান তৈরির ক্ষেত্রে ফ্রান্সের হাইনাএরো (HYNAERO) তাদের ফ্রেগেট-এফ১০০ (Fregate-F100) মডেলের মাধ্যমে প্রায় ১০ টন পানি বহনের দাবি জানিয়েছে।

ইতালির ১৯-০১ হোল্ডিং (19-01 Holding)-এর ডব্লিউএফ-এক্স (WF-X) প্রকল্পে ২০৩১ সালে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং বেলজিয়ামের সিগল (Seagle) নতুন অ্যাম্ফিবিয়াস বিমানের নকশা করছে। তবে এই প্রকল্পগুলোর প্রধান বাধা হলো বিশাল অংকের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি। একটি বিমান রূপান্তর করতে কয়েক কোটি ডলার এবং সম্পূর্ণ নতুন বিমান তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যেই ১১ বছর বিরতির পর কানাডায়ার নতুন ডিএইচসি-৫১৫ (DHC-515) মডেলের উৎপাদন শুরু হয়েছে, যদিও এর সরবরাহ ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।