পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের নরসিংপুর জেলায় আট বছরের এক শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামেন। শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ২২ বছর বয়সী অভিযুক্ত যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বুধবার স্কুলের টিফিনের বিরতির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির কাছে গিয়ে জানায় যে তার বাবা তাকে বাড়ি ডেকেছেন।

সরল বিশ্বাসে শিশুটি তার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু স্কুল ছুটির পরও শিশুটি বাড়ি ফিরে না এলে চিন্তিত পরিবার পুলিশে খবর দেয়।
 
নরসিংপুরের পুলিশ সুপার ডক্টর ঋষিকেশ মীনা জানান, খবর পেয়ে প্রায় ৪০-৫০ জন পুলিশ কর্মী এবং গ্রামের প্রায় ৬০ জন বাসিন্দা একযোগে শিশুটির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্ত যুবক নিজেও তখন পুলিশের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে মেয়েটিকে খোঁজার ভান করছিল।
অবশেষে অন্য কয়েকজন সহপাঠী ছাত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি স্নিফার ডগ ব্যবহার করে। ওই কুকুরটি সোজা অভিযুক্তের বাড়ির সামনে গিয়ে থামে। এরপর প্রায় ৮ ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশির পর গ্রাম থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলের নালা বা খাদ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
 
ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড, তার বাড়ি উচ্ছেদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ অন্য পথ দিয়ে শিশুর মরদেহ গ্রামে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে গোটেগাঁও তহসিলের ওই গ্রামের স্থানীয় বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় এবং গ্রামবাসীরা একটি মোমবাতি মিছিল বের করেন।