তানিয়া বাগচী, কলকাতা: শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দের নীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন জমি নীতি চূড়ান্ত করার আগে শিল্পপতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নিতে ১১ অগস্ট নবান্নে বৈঠক ডেকেছে রাজ্য। শনিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স, কলকাতার আলোচনাসভায় শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত জমি নীতি নিয়ে শিল্পমহলের পরামর্শ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘চূড়ান্ত জমি নীতি প্রকাশের আগে সব পক্ষের মতামত নিতে চাই। ১১ অগস্ট শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠক হবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নীতিটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

’’

সভায় চেম্বারের ডিরেক্টর রাজীব সিং, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা শিল্পপতি পার্থিব নিওটিয়াসহ প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাপসের দাবি, পর্যাপ্ত ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’, স্পষ্ট উৎসাহনীতি ও দ্রুত অনুমোদনের অভাব দীর্ঘদিন বিনিয়োগে বাধা। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ল্যান্ড ব্যাঙ্ক ও জমি নীতি ছিল না, ইনসেনটিভ নীতিও প্রত্যাহৃত হয়েছিল। আগে একটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেতেই ৯-১০ দিন লাগত, ফলে কয়েকটি সংস্থা বাংলা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। তাপস বলেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অনুমোদন সরলীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থা চালু হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘আপনারা নিয়োগকর্তা, আমরা সহায়ক।

বাংলার উন্নয়নে আমরা অংশীদার।’’ জাপানের মিতসুবিশি বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী এবং কয়েকটি ইউরোপীয় সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। ‘সিন্ডিকেট-চার্জ’ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের দাবি করে বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এবং আমি আপনাদের পরিষেবা দেওয়ার জন্যই আছি।’’
এই আবহে মুম্বইয়ে চলতি সপ্তাহে রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকেরা টাটা গোষ্ঠীর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন ও পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান । সিঙ্গুর প্রকল্পের সালিশি বিবাদ মেটাতে আদালতের বাইরে সমঝোতার আলোচনাও শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালে সালিশি ট্রাইব্যুনাল ডব্লিউবিআইডিসিকে টাটা মোটরসকে ৭৬৬ কোটি টাকা, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বার্ষিক ১১% সুদ-সহ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০০৮ সালে জমি আন্দোলনের জেরে ৯৯৭ একরের প্রকল্প থেকে টাটা সরে যাওয়ার পর থেকেই বিবাদ।

অন্যদিকে কলকাতায় ‘হিন্দু ইকনমিক কনফারেন্স’-এ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বাংলার শিল্প-অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। সেই জায়গা বাংলাকে ফের অর্জন করতে হবে।’’ তাঁর অভিযোগ, ‘‘তুষ্টির রাজনীতি এবং স্থবিরতার কারণে বাংলার উদ্যোগী মানসিকতা পিছিয়ে পড়েছে।’’ শিল্পপতি ও তরুণ উদ্যোগপতিদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সমৃদ্ধ বাংলা একটি সমৃদ্ধ, পুনরুত্থানশীল ভারতের অন্যতম পূর্বশর্ত।’’