পুবের কলম, নয়াদিল্লি: জুলাই মাসের ২০ তারিখের আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নিপীড়ণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ ভবন। বিরোধীদের তীব্র হট্টগোল ও স্লোগানের মুখে রাজ্যসভা ও লোকসভা—উভয় কক্ষের অধিবেশনই আগামী ১০ আগস্ট সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদ ভবন চত্বরে ছাতা ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিরোধীরা মকর দ্বারের সামনে “অমিত শাহ জবাব দাও” স্লোগান তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে কক্ষের ভেতরেও সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। লোকসভায় হট্টগোলের মধ্যে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের জোরালো জবাব দেন।

বিরোধীরা কোন মন্ত্রী কখন সভায় আসবেন তা নির্ধারণ করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম শুনলে সন্ত্রাসবাদীরাও কেঁপে ওঠে। যেদিন আলোচনা শুরু হবে, সেদিন বিরোধীরা তা শোনার ধৈর্য রাখতে পারবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসদ চত্বরেই উপস্থিত থাকেন। সংশ্লিষ্ট সভার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কক্ষেই উপস্থিত রয়েছেন।"

রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণন নিজেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

খাড়গের অভিযোগ, "চেয়ারের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সরকার তা অমান্য করছে এবং সংসদকে অপমান করছে।" 

তবে মল্লিকার্জুন খাড়গের এই দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে খারিজ করে দেন কিরেন রিজিজু। তিনি স্পষ্ট জানান, "বিরোধী দলনেতা কক্ষকে বিভ্রান্ত করছেন। স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রীকে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিদিন দীর্ঘ সময় সংসদে কাটান, অথচ বিরোধীরা ১১টার পর চলে যান এবং কেবল হাউসের কাজে ব্যাঘাত ঘটান।" রাজ্যসভায় প্রশ্নকালেই হট্টগোল চরমে উঠলে চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণন উভয় পক্ষকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানান, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন।