পুবের কলম, লখনউ: কোনো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ এবং ‘মস্তিষ্ক প্রয়োগ না করার অনুচিত উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশ গোহত্যা প্রতিরোধ আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে বাজেয়াপ্ত করা একটি গাড়ি মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, আবেদনকারীকে প্রায় ৪.৭৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ বারানসী ডিভিশনের কমিশনার এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার দিন থেকে তা মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা এবং মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক হয়রানির জন্য এককালীন ২৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আবেদনকারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চন্দৌলি জেলায় পুলিশ একটি গাড়ি আটক করে।
অভিযোগ ছিল, সেখানে দুটি গরু এবং একটি বাছুর বেআইনিভাবে বিহারে জবাই করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনায় ১৯৫৫ সালের উত্তরপ্রদেশ গোহত্যা প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় এফআইআর রুজু করে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অন্যদিকে, গাড়ির মালিক বা আবেদনকারী পুলিশি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, রাজ্যের ভেতরেই মাত্র একটি গরু ও একটি বাছুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কিন্তু তা জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি অভিযোগ করেন, চালক পুলিশের চাওয়া ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় এই মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আপিল কমিশনারের বাজেয়াপ্তকরণের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী।
মামলার নথি ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট একাধিক গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরে। হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িটিই ছিল আবেদনকারীর জীবিকার একমাত্র উৎস। গাড়িটি কেনার জন্য তিনি ঋণ নিয়েছিলেন, যার প্রতি মাসে ১২,৫৯৯ টাকা কিস্তি দিতে হতো। গাড়ি বাজেয়াপ্ত হওয়ায় তাঁর আয় বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জীবিকার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত রাজ্য সরকারকে এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।