পুবের কলম, মুম্বাই: মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ও বিশ্বপ্রসিদ্ধ সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম পরিস্থিতির মধ্যেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সিদ্ধিভিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাওয়া দানের হিসাব জমা দেওয়ার পরেই এই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে অভিযোগ তুলেছিলেন, সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরের দানপাত্র থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা চুরি করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের পরপরই রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সিদ্ধিভিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার নেতা সদা সারভণকর জানান, দান চুরি ও তছরুপের অভিযোগে ৯ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্রাস্টের সদস্যরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিযুক্ত কর্মচারীদের একাংশই এই ধরনের চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরের ঘটনাটি কোনো একক ঘটনা নয়।আরও পড়ুন:
সম্প্রতি দেশের একাধিক ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান ও অলঙ্কার নিয়ে অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রধান মন্দিরে একে একে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পবিত্র ধামগুলোর পরিচালনা, নিরাপত্তার ফাঁকফোকর এবং অনুদান গণনার পুরো ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরে পাঁচ বছরের হিসাব পরীক্ষার এই নির্দেশ থেকে কোটি কোটি টাকার এই কথিত তছরুপের আসল সত্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।