যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা কোনো আদেশ জারি করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়।

শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের সিদ্ধান্তেই খোলা ও বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান অবরোধ বজায় রাখবে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও মার্কিন নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তিনি।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪.০৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।

ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে কিছু অগ্রগতির কথা শোনা গেলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শর্ত নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে।