কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের একটি সার্কিট হাউসের ঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার একদিন পর শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহিলা সাংসদদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মহুয়ার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলা প্রশাসন শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে রাজ্য সরকারের অতিথিশালা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অথচ এর আগে ওই অতিথিশালাতেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, ঘর ছেড়ে যেতে অস্বীকার করার পর সার্কিট হাউসের বাইরে একটি ভিড় জড়ো হয় এবং সেখানে ‘জয় শ্রী রাম’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
মহুয়ার দাবি, সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি সার্কিট হাউসে পৌঁছন। রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তাঁকে ফোন করে ঘরটি ছেড়ে দিতে বলেন। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে একটি নির্দেশ পান। সেখানে বলা হয়, ‘বার্ষিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার’ কারণে আগে করা বুকিং রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
স্পিকারকে লেখা চিঠিতে মহুয়া বলেন, একা থাকা একজন মহিলা সাংসদকে গভীর রাতে তাঁর জন্য বরাদ্দ করা থাকার জায়গা ছেড়ে যেতে বলা হলে তাঁর অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন:
তিনি স্পিকারকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখে মহিলা সাংসদদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন:
মহুয়া মৈত্র এ বিষয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU)-এর কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, সার্কিট হাউসের বাইরে একটি ভিড় জড়ো হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলের একাধিক নেতা মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব জানতে চেয়েছেন, ঘটনাটি সংসদীয় বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কি না।আরও পড়ুন:
সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসও ঘটনার নিন্দা করে ওম বিড়লাকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গভীর রাতে ঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নদিয়ায় একাধিক বিক্ষোভ ও সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, জেলা আদালত ও তৃণমূলের একটি কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভের সময় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে নিশানা করেছিলেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ওই ঘটনার জন্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে দায়ী করেছে। সূত্র: দি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস