পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ব্যবহার এবং মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে স্পষ্ট জানালেন মুর্শিদাবাদের এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের। তিনি জানান, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিষেক এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। এর জেরে ভোটের ফল খারাপ হতে পারে বলে আগেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা।

 তাঁদের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয় এবং নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসন পায় তৃণমূল।

এরপরই দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ায় কালীঘাট তৃণমূল কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।

শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে আবু তাহের জানান, নির্বাচনের পর ৮ তারিখ কালীঘাটের বৈঠকে তিনি ফের হারের কারণ হিসেবে এই বিষয়গুলি তুলে ধরেন। সাংসদদের প্রতি অভিষেকের দুর্ব্যবহারের কারণে লোকসভার নেতা পরিবর্তনের দাবি জানালেও নেত্রী তাতে কর্ণপাত করেননি। এরপরেই তাঁরা দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

 

প্রথমে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে তাঁরা নতুন দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন। দলবদলের কারণে এলাকার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলেও, পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলার পর তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন তাহের। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা বিজেপিতে নেই এবং এনডিএ-র নামে ডাকা কোনও বৈঠকেও তাঁরা যাবেন না। তাঁদের সমস্ত পদক্ষেপ হবে ইস্যুভিত্তিক।