পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে ১৪তম পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলন রবিবার ১৫ দিনে পা দিল। টানা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ছ'জন পড়ুয়া। শনিবার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চার দফায় ম্যারাথন বৈঠক হলেও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে জট কাটাতে রবিবার দুপুর ১২টায় আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার। তবে একাংশ পড়ুয়ার অভিযোগ, তাঁদের এই আন্দোলন ও পরীক্ষা বাতিলের দাবিকে ঘিরে নতুন করে রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে জানিয়েছেন, সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ছাত্রদের দাবিগুলি বিবেচনা করছে। গোটা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকেও নিয়মিত আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার পড়ুয়াদের পাশেই রয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার বিষয়ে জোরদার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধানসূত্র পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

বর্তমানে এই ছাত্র আন্দোলন মূলত দু'টি ভিন্ন মঞ্চে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং তাদের দাবিদাওয়ায় বিস্তর ফারাক রয়েছে। অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন ‘জেপিএসসি জেএসএসসি ক্যান্ডিডেটস ফোরাম’ চাইছে অবিলম্বে ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হোক এবং গোটা দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত হোক। অন্যদিকে, ‘জেপিএসসি জেএসএসসি রিফর্ম্‌স মঞ্চ’-এর দাবি, দ্রুত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। সরকার এই দুই পক্ষের সঙ্গেই পৃথকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গগত, রাজ্যে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ওঠা এই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগের তদন্তভার বর্তমানে সিআইডি-র হাতে রয়েছে। জেপিএসসি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।