পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভা চত্বরে এক অভাবনীয় ছবি দেখা গেল। এদিন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতাদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পা মেলালেন বিরোধী ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ক।

 খিদিরপুরের আবদুল খালেক মোল্লা, বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দার এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষদের সঙ্গে হাতে পোস্টার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান। দলের অন্দরের এই ছবি দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন ধরেছে, নাকি দলের পুরনো নেত্রীর প্রতি সম্মান থেকেই তাঁরা এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার।

তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে হালিশহর থেকে বিরজু কেওট নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, জেলে দেখা করার সময় তিনি সুস্থই ছিলেন। কিন্তু ভোররাতে লকআপে তাঁর রহস্যমৃত্যু ঘটে। পুলিশ হেফাজতে খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয় পরিবার। এই ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেখানে তাঁকে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জল ও জুতো ছোড়া হয় এবং 'চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি হামলা চালিয়েছে এবং বাংলা এখন গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদেই এদিন বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়েও হামলার প্রতিবাদে পথে নামেন তৃণমূলের আরেক অংশের নেতারা। কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, যুবনেত্রী উপাসনা চৌধুরী ও যুব তৃণমূল সভাপতি অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ সেই জমায়েত হটিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।