পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, ঘরবাড়ি, অফিস, স্কুল কিংবা হাসপাতালে জীবাণু ধ্বংস করতে নিয়মিত ব্যবহার করা হয় নানা ধরনের জীবাণুনাশক। কিন্তু এসব পণ্যের কিছু রাসায়নিক নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন ব্যবহারে এসব রাসায়নিক শ্বাসযন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণাগারে ইঁদুরের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং নানা জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঘটনা থেকেই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

পরে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসেছিল ইঁদুরগুলো।

পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অনেক জীবাণুনাশক হাত পরিষ্কারের তরল হিসেবে, অনেক জীবানুনাশক আবার কাপড় ধোয়ার সামগ্রী ও অন্যান্য পণ্যে ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা ইঁদুরের গর্ভধারণের ক্ষমতা কমেছে। কিছু ইঁদুরের ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডেও গুরুতর ত্রুটি দেখা গেছে। পুরুষ ইঁদুরের শুক্রাণুর সংখ্যাও কমে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

তবে গবেষকেরাই বলছেন, ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিবার ঘর পরিষ্কারের সময় জীবাণুনাশক ব্যবহার করার দরকার নেই। সাধারণ ময়লা পরিষ্কারে সাবান ও জলই যথেষ্ট। কেউ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে বা বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।


পণ্যের গায়ে জীবাণুনাশক, জীবাণুরোধী বা জীবাণু ধ্বংসের দাবি থাকলে উপাদানের তালিকা দেখে কেনা উচিত। অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কম রাখাই নিরাপদ।