পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিতে পড়ুয়াদের অনশন ও টানা আন্দোলনের জেরে অবশেষে পিছু হঠতে চলেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, রবিবার ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে রফাসূত্র মিলেছে এবং বিতর্কিত তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সরকার রাজি হয়েছে। পাশাপাশি, এই পরীক্ষাগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইডি-র তদন্তের দাবিও সরকার মেনে নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী।
তাঁদের মূল দাবি ছিল, সিবিআই বা ইডিকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল রাখা এবং গোটা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সুবিচার করা। এই দাবিগুলি নিয়ে এর আগে সরকারের সঙ্গে পড়ুয়াদের পাঁচ দফা বৈঠক হলেও কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি।আরও পড়ুন:
ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোর নেতৃত্বে এই অনশন চলছে। শনিবার তিনি জানান, টানা ১৫ দিনের অনশনে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তাঁর রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিম্নমুখী এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে না।
এছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সংসদ ভবন অভিযানের কায়দায় ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা ঘেরাও করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। প্রবল চাপের মুখে পড়েই সরকার অবশেষে এই দাবিগুলি মেনে নেওয়ার পথে হাঁটছে।আরও পড়ুন:
পড়ুয়াদের দাবি মেনে ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ১৪তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি, বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত অন্যান্য পরীক্ষাগুলিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সরকার আইআইএম এবং এক্সআইএসএস-এর সহযোগিতাও চাইতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।