পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। তবে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মতো রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে ঢালাও আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রের খবর, কেবল দশ লক্ষ টাকার নীচে বাজেট থাকা ছোট ও প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলিকেই বেছে বেছে অনুদান দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে বর্তমান রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

বুধবার নবান্নে ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই কর্তা অঞ্জন উকিল এবং সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ফোরামের তরফে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানানো হয়েছে, ওই বৈঠকে পুজো অনুদান, বিদ্যুতের বিলে ছাড়, হোর্ডিং ও ব্যানারের উপর কর্পোরেশন ট্যাক্স মকুব-সহ একাধিক বিষয়ে অত্যন্ত সদর্থক আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে কথা বলে চলতি মাসেই একটি বৈঠকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন এবং তিনি উদ্যোক্তাদের পুজোর প্রস্তুতি শুরু করার বার্তাও দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, করোনা আবহে ২০২০ সালে প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া শুরু করেছিল রাজ্য, ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২৫ সালে তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়। বর্তমান সরকারের পরিবর্তিত অবস্থানের জেরে ছোট পুজো কমিটিগুলি অনুদানের আশায় থাকলেও, বাজেট চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেকেই থিম বা শিল্পী বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বাছাই করে অনুদান দেওয়ার ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে টালা প্রত্যয়ের মতো বড় পুজো কমিটি। অন্যদিকে, বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাবের মতো ছোট বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা সরকারি সাহায্য পেলে আরও ভালোভাবে পুজো করার আশায় মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।