নাজির হোসেন লস্কর: পয়সার বিনিময়ে নয়, রক্তদান আন্তরিকতার বিষয়—এই বার্তা দিয়েই জীবনের ৫০তম বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করলেন সমাজসেবী আলহাজ্ব সেখ জাহির ইসলাম। ডায়মন্ড হারবার প্রেস কর্নারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শ্রাবণ স্মৃতি’ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে নিজের অর্ধশততম রক্তদান সম্পন্ন করেন তিনি।

রক্তদানের পর জাহির ইসলাম বলেন, “রক্ত কোনও কলকারখানায় উৎপাদন হয় না। পয়সার বিনিময়েও রক্ত পাওয়া যায় না। রক্তদান সম্পূর্ণ আন্তরিকতার বিষয়। প্রেস কর্নারের এই উদ্যোগের কোনও তুলনা হয় না।

এই মহতী কাজে গোটা যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।”

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের কাছে সমাজসেবী সেখ জাহির ইসলাম পরিচিত ‘জাহিরদা’ নামে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে চলেছেন তিনি। মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ফলতায় গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ৫ বেডের নার্সিংহোম। আজ সেই নার্সিংহোম সাড়ে ৩০০ শয্যার দি সাহারারহাট জেআইএস হাসপাতাল। সমাজসেবার পাশাপাশি রক্তদানের ক্ষেত্রেও তাঁর এই ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

তবে তাঁর রক্তদানের পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। সালটা ১৯৯৪। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯ বছর। তাঁর আব্বার জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হয়। পরিবারের সদস্য হিসেবে বাবার প্রাণ বাঁচাতে নিজের রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তরুণ জাহির ইসলাম।

কিন্তু বয়স কম হওয়ায় প্রথমে তাঁর রক্ত নিতে রাজি হননি স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তবুও বাবার জন্য রক্ত জোগাড় করার তাগিদে তিনি নিজের রক্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। তাঁর দৃঢ়তা ও সাহস দেখে শেষ পর্যন্ত এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী রাজি হন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাবার জন্য প্রথমবার রক্তদান করেন তিনি।

সেই শুরু। এরপর আর থেমে থাকেননি জাহির ইসলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত রক্তদান করে গিয়েছেন। একের পর এক রক্তদানের মাধ্যমে এবার পূর্ণ করলেন ৫০তম রক্তদান।

ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকে শুরু হওয়া সেই রক্তদান আজ পরিণত হয়েছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক দীর্ঘ অঙ্গীকারে। তাঁর এই দৃষ্টান্ত আগামী দিনে আরও বহু যুবককে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের।