পুবের কলম, গান্ধিনগর: গুজরাটের কচ্ছ জেলার মুন্দ্রায় অবস্থিত চারটি মুসলিম ধর্মীয় স্থানে আপাতত কোনো বলপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল গুজরাট হাইকোর্ট। স্থানীয় প্রশাসনের উচ্ছেদের নোটিশের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিগুলো আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ পি মায়ীর একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির নির্দেশ দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ধর্মীয় কাঠামোগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। যার বিরুদ্ধে আইনগত সুরক্ষার দাবিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলি।


 
মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন জানানোর আইনি সময়সীমা। আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়, গুজরাট ভূমি রাজস্ব আইন, ১৮৭৯-এর ২১ নম্বর ধারায় মুন্দ্রার মামলতদার নোটিশ জারি করে তাঁদের ১৫ দিনের মধ্যে ওই ধর্মীয় স্থানগুলো সরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী, এই ধরণের প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষের উচ্চতর সংস্থায় আপিল বা আবেদন করার জন্য ৯০ দিন সময় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, মাত্র ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে প্রশাসন তাঁদের সাংবিধানিক ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে, যা স্বাভাবিক বিচারনীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

 
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অনিরুদ্ধ পি মায়ী আবেদনকারীদের যুক্তিতে সম্মতি প্রকাশ করেন। আদালত নির্দেশ দেয়, আবেদনকারীরা যতক্ষণ না তাঁদের বিধিবদ্ধ আইনি আপিলের অধিকার প্রয়োগ করার সম্পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন বা সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই চারটি ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা বলপূর্বক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত ওই চারটি ধর্মীয় স্থান অপসারণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থমকে গেল। উচ্ছেদ সংক্রান্ত এই আইনি লড়াইয়ে মসজিদ কমিটিগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করেছে অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস’। সংগঠনটি জানায়, তারা ‘মুসলিম ইউথ কোর কমিটি’র সঙ্গে যৌথভাবে নথি প্রস্তুত ও আদালতের শুনানির সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।