উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুলতলিতে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হলো বিশ্ব আদিবাসী দিবস। গত রবিবার রানি রাসমণি মিশনের উদ্যোগে কুলতলি বিধানসভার কাঁটামারি চূড়ামণি হাইস্কুলের বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং তাদের জীবনযাত্রার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক উজ্জ্বল চৌধুরী, কুলতলির প্রাক্তন বিধায়ক জয়কৃষ্ণ হালদার, সুন্দরবন গবেষক ড. কানাইলাল দাস, গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানী বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজসেবক অর্জুন প্রামাণিক এবং লোকমাতা রানি রাসমণি মিশনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এদিনের আয়োজনে আদিবাসী সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়। নৃত্য, গান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী রান্নার একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের যাত্রাপথে আদিবাসী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের অধিকার, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাদের অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। একই সাথে, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আদিবাসী সমাজের বহু মানুষের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।