ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট একটি গোপন মেমোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ২১ দিনের মধ্যে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছেন। তাঁর মেমোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ধীরগতির উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত বদলানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও ১,৩০০টির বেশি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় ২,২০০টি থাকলেও তা কমে ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে। একইভাবে থাড ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা ৪৫২ থেকে কমে ২৭৮টির নিচে নেমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যানসহ একাধিক প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পেন্টাগন।

লকহিড মার্টিনকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিও দেওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করা হচ্ছে। অন্যদিকে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, চলমান সংঘাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে আরও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ইরান সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও বড় চাপ তৈরি করেছে।