পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মাঝে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভারচুয়াল সাংবাদিক বৈঠক এবং তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জোরালো ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার জেরে বর্তমান তারেক রহমান সরকারের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। এই আবহে আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তাঁর আসার কথাও ছিল। কিন্তু হাসিনার ওই সাংবাদিক সম্মেলনের পর তিনি ভারত সফর এড়িয়ে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্যেও সেই জল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।
দীনেশ ত্রিবেদী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সকলেই সম্মান করি। আমার মতে, নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমান— এই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে।
আলোচনার মধ্যে দিয়েই সমাধানের রাস্তা খোলে। এখানে নেতিবাচক কিছু নেই, সবটাই ইতিবাচক।”

তবে কূটনৈতিক মহল এখনই তারেক রহমানের ভারত সফর বাতিলের সম্ভাবনা পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ। ভারতের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের নেপথ্যে নয়াদিল্লির কোনও ভূমিকা ছিল না। তাছাড়াও ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তারেক রহমানের মধ্যে একটি পৃথক বৈঠকের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশা, ওই বৈঠক বাস্তবায়িত হলে দু'দেশের সম্পর্কে জমে থাকা অনেক জটই কেটে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্যই হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই রাষ্ট্রনেতার মুখোমুখি আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।