পুবের কলম, লখনউ: হিন্দু ধর্মে পবিত্র বিবেচিত ‘সাওয়ান’ (শ্রাবণ) মাসে বিরিয়ানি বিক্রির কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার বহেরি এলাকায় একটি ছোট বিরিয়ানির দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল স্থানীয় পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাতে একাধিক হিন্দু সংগঠনের অভিযোগের পরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো ধর্মীয় কারণে নয়, পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘনের অপরাধেই এই আইনি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রের খবর, সাওয়ান মাস চলাকালীন বহেরি এলাকায় ওই বিরিয়ানির দোকানটি খোলা থাকায় ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত লাগছে—এমন দাবি তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও পুরসভার একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং একটি বুলডোজার এনে দোকানটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ঘটনার সময়ে সেখানে প্রচুর মানুষের ভিড় জমলেও কোনো ধরনের বড় অপ্রীতিকর ঘটনা বা প্রতিবাদী গোলমাল ঘটেনি এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
 
পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে পুর আইনের বিধিনিষেধ মেনেই করা হয়েছে।
পুর পরিদর্শক আহমেদ হাসান বলেন, "যদি কেউ পুরসভার নিয়মকানুন ও আইন লঙ্ঘন করেন, তবে ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।" যদিও প্রশাসনিকভাবে এটিকে সাধারণ উচ্ছেদ অভিযান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তবুও একাধিক হিন্দু সংগঠনের অভিযোগের পরেই যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে দোকানটি ভাঙা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সমালোচকরা।
 
উল্লেখ্য, সাওয়ান মাস এবং কাঁওড় যাত্রার সময় উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রুটে খাবার দোকান খোলা ও খাদ্যভ্যাস নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের মূল অগ্রাধিকার। বরেলি পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কোনো উত্তেজনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।