পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সরকারের একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। রবিবারও দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়, তবে তাতেও বরফ গলেনি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা বাতিল, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সংস্কার এবং সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। আজ, সোমবার বিধানসভা অভিযান কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, লাঠি, ডান্ডা বা বন্দুক দিয়ে নয়, আলোচনার পথেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছেন সোরেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা চলছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি কিছু বুদ্ধিজীবীও পড়ুয়াদের ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, তাঁদের উদ্বেগ সরকার বুঝতে পারছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে পুরনো সিআইডি রিপোর্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে প্রায় ১২০টি ফাঁস হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

যদিও পরবর্তীতে রাজ্য সরকার ওই রিপোর্টের সিদ্ধান্ত খারিজ করে জানায়, পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম হয়নি।
এই রিপোর্টকেই হাতিয়ার করে সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর রাঁচি সফরের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমশ বাড়ছে।