পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে বম্বে হাই কোর্ট ‘তহেলকা’ সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। এবার বাবার সমর্থনে মুখ খুললেন কন্যা কারা তেজপাল। তাঁর দাবি, গত ১৩ বছরের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তিনি নিশ্চিত যে তাঁর বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।
আরও পড়ুন:
সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে কারা সরাসরি বিজেপি সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন।
তাঁর অভিযোগ, ‘তহেলকা’-র স্বাধীন ও নির্ভীক সাংবাদিকতা বিজেপির বিভিন্ন অস্বস্তিকর বিষয় প্রকাশ্যে এনেছিল। বিজেপি সরকারের ‘কাঁটা’ হয়ে ওঠায় তরুণ তেজপালের কণ্ঠরোধ করতেই রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁকে ধর্ষক হিসেবে প্রতিপন্ন করার কৌশল নিয়েছে। সাধারণ মানুষকে কেবল খবরের শিরোনাম না দেখে, তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দেখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তেজপাল নিজেও নিজেকে ‘রাজনীতির শিকার’ বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবার বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি নীলা গোখেল এবং অমিত জামসান্দেকরের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়। তাঁকে আত্মসমর্পণের জন্য দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ ও ৮ নভেম্বর গোয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলে ‘তহেলকা’-র অনুষ্ঠান চলাকালীন লিফটের মধ্যে এক তরুণী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তেজপালের বিরুদ্ধে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজেও অভিযোগের সত্যতা মেলে।
ওই বছরের ৩০ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন এবং ছ’মাস গোয়ার ভাসকো জেলে বন্দি ছিলেন।আরও পড়ুন:
২০১৪ সালে ৩ হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয় গোয়া পুলিশের অপরাধদমন শাখা। ওই বছরই জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান তেজপাল। এরপর আইনি টানাপোড়েনের পর ২০২১ সালে গোয়ার দায়রা আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করে। অবশেষে সেই মামলাতেই বম্বে হাই কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়।