পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সুরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার শ্রীনগরের বকশী স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রধান স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ২০১৯ সালে ধারা ৩৭০-এর অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ অবস্থান রদ করা না হলে, আজ পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের (পিওকে) মানুষ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার জন্য আন্দোলন করত।
 
ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং ১৯৪৭ সালে সীমান্ত পারের আক্রমণকারীদের প্রতিরোধকারী স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ভূমি রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। মুজাফফরাবাদে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সমর্থিত উপজাতীয় আক্রমণ থামানোর সময় শহীদ হওয়া এনসি নেতা মাস্টার আব্দুল আজিজকে স্মরণ করে তিনি বলেন, "সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) ওপারের বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে বুঝতে পারি, আমাদের পূর্বসূরিরা যে 'হামলাভর খবরদার, হাম কাশ্মীরি হ্যাঁয় তৈয়ার' ধ্বনি তুলেছিলেন, তা কতটা সঠিক ছিল। আমি উপলব্ধি করি ৮০ বছর আগে আমাদের নেতারা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা একশো শতাংশ সঠিক ছিল।"
 
পাক-অধ্যুষিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের বর্তমান দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ভারত তাঁদের নিজস্ব জনগণ বলেই মনে করে।
এই কারণেই জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় পিওকে-র প্রতিনিধিদের জন্য এখনও আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যাতে একদিন তাঁরা এসে সেই আসনে বসতে পারেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের দেশ রাজ্যগুলোর একটি ইউনিয়ন বা সংঘ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বাঁচাতে ও শক্তিশালী করতে হলে জম্মু ও কাশ্মীর থেকেই তা শুরু করতে হবে। আমাদের কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে আমাদের পরিচয় কেবল কথায় নয়, কাজেও প্রকাশ পায়। যখনই রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করা হয়, তার প্রভাব এসে পড়ে রাজপথে।"