পশ্চিমবঙ্গের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের আওতায় ছাত্রীদের দেওয়া বার্ষিক উৎসাহ ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বর্ধিত হারে এই ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে রাজ্যের সরকারি স্কুলের ২০ লক্ষাধিক ছাত্রী উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ‘কন্যারত্ন দিবস’-এর অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করা হয়।
আগে ‘কন্যাশ্রী’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় ১৩ বছর বয়স থেকে ছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি বছর উৎসাহ ভাতা পাঠানো হতো। সরকারের দাবি, স্কুলছুট কমানো এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।আরও পড়ুন:
এদিন প্রায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ হাজার টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্কুলগুলোর মাধ্যমে যেসব ছাত্রীর তথ্য যাচাই করে পাঠানো হয়েছে, তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথমে টাকা পৌঁছাবে।
বাকিদের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে তাদেরও টাকা দেওয়া হবে। এ জন্য রাজ্য সরকার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।আরও পড়ুন:
এছাড়া ১ লক্ষ ২৯ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বা ১৮ বছর বয়সের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচিরও সূচনা করা হয়। মহিলাদের জন্য ১৮১ নম্বর বিশেষ হেল্পলাইন চালু করার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ‘পালনা’ নামে অঙ্গনওয়াড়ি কাম ক্রেশ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের যত্ন, পুষ্টি ও প্রাথমিক মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে আরও কয়েকটি উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দের নামে মেরিট স্কলারশিপ চালু রাখার পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসাশিক্ষায় সহায়তার জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারের দাবি, মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা, স্কুলছুট কমানো এবং উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি ছাত্রীকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।