পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের নতুন বিজ্ঞাপিত পাঠ্যক্রম থেকে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় বিষয় 'দিল্লি সুলতানি'-সহ প্রাচীন, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক ভারতের ইতিহাসের একাধিক কোর্স বাদ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শিক্ষামহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা এবং সমালোচকেরা এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার "গেরুয়াকরণ" এবং ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
 
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাদ পড়া মূল পেপারটির নাম ছিল— “দ্য দিল্লি সুলতানি: স্ট্রাকচার্স অফ অথরিটি ইন মিডিয়াভাল নর্থ ইন্ডিয়া (১৩শ-১৪শ শতাব্দী)”।

বিগত কয়েক দশক ধরে এটি স্নাতকোত্তর ইতিহাস বিভাগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোর্স হিসেবে পঠিত হয়ে আসছিল। এতে ১২০০ ও ১৩০০ শতকে দিল্লি সুলতানি প্রতিষ্ঠা, তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হতো।
 
এছাড়াও নতুন সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে- 'হিস্ট্রি অফ নর্থ ইন্ডিয়া, সি. ১৪০০-১৫৫০', 'জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন ইন আর্লি ইন্ডিয়া: ১৫০০ বিসিই টু ১০০০ সিই', 'পলিটিক্যাল প্রসেসেস অ্যান্ড স্ট্রাকচার অফ পলিটিজ ইন আর্লি ইন্ডিয়া' ও 'রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি ইন আর্লি ইন্ডিয়ান লিটারেচার'। ইতিহাস বিভাগের প্রস্তাবিত ৩৮টি 'ডিসিপ্লিন স্পেসিফিক ইলেক্টিভ' পেপারের মধ্যে গত ৭ আগস্ট প্রকাশিত ৩য় সেমিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১৬টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাকি পেপারগুলির গায়ে 'আলোচনা হয়নি' বলে লিখে রাখা হয়েছে।
 
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের ডিন কে. রত্নাবলী অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে কোর্স আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল উপাচার্য যোগেশ সিংকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের ক্ষমতা দিয়েছিল। তাঁর দাবি, বিভাগীয় স্তরে স্ট্যান্ডিং কমিটির অনুমোদনের পরেও পাঠ্যক্রমে এককভাবে পরিবর্তন, ইউনিট অদলবদল এবং রিডিং তালিকা বাদ বা প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে একটি আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়, যার কারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল।