পুবের কলম, পাটনা: বিহারের ভাগলপুর জেলার গোপালপুর গ্রামে হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে অন্তত ৪২টি খ্রিস্টান পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামে লাউডস্পিকার বাজিয়ে ওই পরিবারগুলিকে হয় ‘ঘর ওয়াপসি’ (হিন্দু ধর্মে রূপান্তর) করতে, না হয় গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নিদান দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
 
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট ৩ চাকার একটি গাড়িতে লাউডস্পিকার বেঁধে পুরো গ্রাম জুড়ে এই হুমকি প্রচার করা হয়। সেই ঘোষণার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

লাউডস্পিকারে করা ঘোষণায় খ্রিস্টান পরিবারগুলিকে ‘সমাজদ্রোহী’ বলে উল্লেখ করে গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দাদের তাদের সম্পূর্ণ সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দাবি করেন, গোপালপুর ঐতিহাসিকভাবে কেবল হিন্দুদের গ্রাম এবং ভবিষ্যতেও সেখানে শুধু হিন্দুরাই বসবাস করবে। খ্রিস্টান বাসিন্দাদের হয় নিজেদের ধর্ম পরিত্যাগ করা, নয়তো ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার বিকল্প বেছে নিতে বলা হয়। কেবল বাসিন্দারাই নন, এই প্রচারের নিশানা করা হয়েছে খ্রিস্টানদের উপাসনালয়গুলিকেও। গীরজা বা চার্চগুলিকে গ্রামের সামাজিক কাঠামোর জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করা হয়, আজ যদি চার্চ করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে কাল সেখানে মসজিদও গড়ে উঠবে।
এক বক্তাকে বলতে শোনা যায়, এদের অনুমতি দিলে গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে।
 
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, গোপালপুর একটি ছোট গ্রাম, যেখানে ৪১১টি পরিবারের ২,৩৮৭ জন বাসিন্দা বাস করতেন। বর্তমানে সেখানে ৪২টি খ্রিস্টান পরিবার বসবাস করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় খ্রিস্টান বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু এবার প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে শাস্তি ও গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার কর্মী ও প্রবীণ মানবাধিকার আন্দোলনকারী জেসুইট ফাদার সেড্রিক প্রকাশ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার এই আহ্বান কেবল কোনো ধর্মীয় বিবাদ নয়, এটি ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্ম পালন ও প্রচারের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে ঘৃণাভাষণ বা ‘হেট স্পিচ’-এর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।