পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ছত্তিশগড়ে ৩৪ বছর বয়সী এক যুবকের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুর আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর এফআইআর দায়ের করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুরো ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে, রাজ্য সরকারের অকর্মণ্যতার সমালোচনা করে নিহতের পরিবারকে অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দ্বীপ মেহতার বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক নির্দেশ প্রদান করে। সিবিআই-কে একজন জ্যেষ্ঠ আধিকারিকের অধীনে এই মামলার তদন্তভার দেওয়ার এবং আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানায়, "মামলার তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি যে, বিচারের স্বার্থেই শ্রাবণের হেফাজতে মৃত্যুর পরিস্থিতির তদন্ত সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া প্রয়োজন। তদন্ত শেষে হেফাজতে হিংসার জন্য দায়ী সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।" সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিচারবিভাগীয় তদন্তে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাথায় আঘাতের কারণেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও যে সমস্ত সরকারি আধিকারিক যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, সিবিআই-কে তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।
জানা যায়, নিহত যুবকের মুদির দোকানের সামনে ১,২০০ টাকা মূল্যের দেশি মদ বিক্রির অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হেফাজতে নেওয়ার ৩ দিন পর, ২১ জানুয়ারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বিচারবিভাগীয় তদন্তে জুলাই ২০২৪-এ রিপোর্ট পেশ করা হয়, তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়— ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রিপোর্ট জমা পড়া সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ দীর্ঘ আড়াই বছরে কোনো এফআইআর দায়ের করেনি।
এর আগে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে নিহতের স্ত্রী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট কোনো এফআইআর বা তদন্তের নির্দেশ না দিয়ে মাত্র ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দেয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পরিবার। এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন এবং হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছ। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্য সরকারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।