পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের বাদ্যি বাজতে চলেছে। তার আগে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্যে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দুটি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়েছে এবং পুরনো বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিধানসভায় বিল পেশ করার সময় হাওড়ার দীর্ঘদিনের অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ পানীয় জল এবং নিকাশির মতো প্রাথমিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
তৃণমূল জমানায় পুকুর ভরিয়ে বেআইনি নির্মাণ এবং ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। নির্বাচনে হারের ভয়েই বিগত সরকার দীর্ঘদিন সেখানে ভোট করায়নি। মন্ত্রীর দাবি, প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দিতেই হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী জানান, এতদিন হাওড়ার কিছু ওয়ার্ডে ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটার ছিলেন। নতুন পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড প্রতি ভোটারের সংখ্যা ১৫ থেকে ১৬ হাজারে নামিয়ে আনা হবে, যার ফলে পরিষেবা দেওয়া অনেক সহজ হবে।
হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বালি পুরসভাকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো করে রেখেছিল এবং সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়ার জলনিকাশি ও উন্নয়নের স্বার্থে ৪ হাজার ৭০২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। বিধানসভায় প্রাক্তন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বালির উন্নয়নের সাফাই দিতে গেলে তুমুল হট্টগোল শুরু হয় এবং বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কলকাতার ক্ষেত্রে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০০টি করার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট ১৬ হাজার ভোটার রাখতে গিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। তাই নতুন করে সীমানা নির্ধারণের পর কলকাতা পুরসভা মোট ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র তৈরি করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লেও কলকাতায় আগের মতোই মোট ১৬টি বরো থাকছে।