মুসরত আরা পারভিন : স্বামীর চিকিৎসা থমকে। তিন সন্তানের চোখে অসহায়তা আর অনিশ্চয়তা। আব্দুলের চিকিৎসায় খরচ পড়বে মোট ১০ লক্ষ টাকা। সেই টাকা কোথা থেকে জোগাড় হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পুরো পরিবার। অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় শুয়ে বারবার সন্তানদের মুখের দিকে তাকাচ্ছেন শেখ আব্দুল। মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত এই মানুষটির একটাই আকুতি—আরও কিছুদিন বাঁচতে চান। কারণ, তাঁর উপর নির্ভরশীল স্ত্রী ও তিন ছোট সন্তান।
কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে তাঁর।মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিরুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল। প্রায় এক বছর আগে তাঁর মুখে ক্যান্সার ধরা পড়ে। তার আগে হোটেলে কাজ করে স্ত্রী লালবানু বিবি এবং তিন সন্তানকে নিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু অসুস্থতার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার খরচ মেটাতে যা কিছু সঞ্চয় ছিল, তাও শেষ হয়ে গিয়েছে।
বাস্তুভিটা ছাড়া পরিবারের আর কোনও জমিজমা নেই। ভাঙাচোরা ঘরেই পাঁচজনের সংসার। বর্তমানে সংসারের হাল ধরেছেন লালবানু। দিনমজুরি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনওরকমে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। সেই সামান্য আয় থেকেই স্বামীর ওষুধের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ফলে সংসার চালানো এবং চিকিৎসা—দুই দিক সামলাতে গিয়ে কার্যত দিশেহারা পরিবার।

পরিবারের দাবি, আব্দুলের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। টাকার অভাবে চিকিৎসা মাঝপথে থেমে যাওয়ায় আরও উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারের। কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি লালবানু। তাঁর আবেদন, স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন মানুষ। তিন সন্তান যেন বাবাকে হারিয়ে না ফেলে—এই আশাতেই এখন প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও স্বামীকে সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছেন লালবানু বিবি। আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা : ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর - 100281162777 এবং আইএফএসসি কোড - INDB0000728, এই নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠালে আবদুুলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবে অসহায় পরিবার। বাবাকে সুস্থ করে তুলতে পারবে নাবালক সন্তানরা। এখন সহায়তার অপেক্ষাতেই দিন গুনছে বিরুয়ার এই অসহায় পরিবার।
