পুবের কলম, আইজল: কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত বিতর্কিত ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই বিলটি সংসদে চূড়ান্ত গ্রহণের আগে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-র কাছে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা এবং দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় খ্রিষ্টান ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। চলতি মৌসুমি অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে এই খসড়া বিলটি লোকসভায় আলোচনার জন্য ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মাঝে গত ২২ জুন কেন্দ্র সরকার ঘোষিত নতুন এফসিআরএ নিয়মাবলী এবং এই প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল উভয়ই প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক সংস্থা ‘ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া’।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে সরকার এফসিআরএ-র আওতায় বিদেশি অনুদান গ্রহণের জন্য সংশোধিত নিয়মাবলী বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে। নতুন নিয়মে কোনো অলাভজনক বা বেসরকারি সংস্থাকে নির্দিষ্ট তালিকা থেকে তাদের কাজ ও উদ্দেশ্য বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও কল্যাণমূলক কাজকে অনুদানের আওতায় রাখা হলেও, বেশ কিছু ক্যাটাগরি থেকে ‘ধর্মান্তর’ বা ধর্মান্তরিতকরণ সংক্রান্ত কাজকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত এই সংশোধনী বিলটির ফলে তৃণমূল স্তরের জনকল্যাণমূলক সংস্থাগুলো বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়ার সচিব জেনারেল এবং দিল্লির আর্চবিশপ মোস্ট রেভ. অনিল জোসেফ টমাস কুতো এক ভিডিও বার্তায় চার্চ এবং খ্রিষ্টান সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এই নীতি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
আর্চবিশপ কুতো বলেন, "জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক সেবার মাধ্যমে চার্চ ঐতিহ্যগতভাবেই দেশ গঠনে দীর্ঘদিনের অংশীদার। খ্রিষ্টান সমাজ আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জাতীয় সুরক্ষার বিষটিকে পূর্ণ সমর্থন জানায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বিধিনিষেধগুলোর কারণে তৃণমূল স্তরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা ধর্মীয় ও অন্যান্য দাতব্য সংস্থাগুলো চরম পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।"