পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: বাংলার দুর্বল শ্রেণিভুক্ত নাগরিকদের জন্য এসআইআর, ট্রাইব্যুনালে পাঠানো সিটিজেনদের সমস্যা এবং আদমশুমারি বা সেনসাসে যেভাবে নিজেই নিজের ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে, সেই সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির দাবিতে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ কলকাতায় মিছিল করতে চেয়েছিল। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে মিছিল করা নাগরিকদের সংবিধান স্বীকৃত অধিকারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু কি জানি কেন কলকাতা পুলিশ তাদের অনুমতি দিচ্ছিল না। 

এ সম্পর্কে বাংলার জমিয়ত প্রধান মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি পুবের কলম-কে বলেন, আমরা ১১ আগস্ট, ২০২৬ মিছিল করতে চেয়ে ৩ আগস্ট, ২০২৬ লালবাজারে চিঠি দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, এই মিছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু কলকাতা পুলিশ ৫ দিন পর আমাদের জানায়, আমরা মিছিলের যে প্রস্তাবিত রুট দিয়েছিলাম, অর্থাৎ রাজাবাজার থেকে এসএন ব্যানার্জি হয়ে ধর্মতলা, পুলিশের তাতে আপত্তি। জবাবি চিঠিতে তারা লিখেছিল, রাস্তা নাকি ব্যস্ত। তাই কোনও অনুমতি দেওয়া যাবে না। 
এরপর আমরা চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম, এই ব্যস্ত রাস্তার এক ধারে হয়ে মিছিল যাবে।

আর অন্যান্য পার্টি বা সংগঠনের মিছিল এই রাস্তা দিয়েই গেছে। পুলিশের জবাব না পেয়ে আমরা কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করি। 

সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই রিট পিটিশনের শুনানি হয়। সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র ও তাঁর সহযোগীরা। আর জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, মুস্তাফিজুর রহমান, মুহাম্মদ বাবুল হোসেন, আফজাল আনসারি প্রমুখ। 
বিচারপতি প্রথমেই পুলিশের সমালোচনা করে বলেন, একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে পুলিশ জবাব দিতে ৫ দিন সময় নিয়েছে। পুলিশ তাহলে কি করে? বিচারপতি এও প্রশ্ন করেন, যে রুট জমিয়ত চেয়েছে সেখানে তো মিছিল প্রায়ই হয়। তাহলে আপত্তি কেন?

তখন সরকারি আইনজীবীরা বলেন, এরা হচ্ছে জামায়াত। বিচারপতি সরকার পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করেন। 
প্রসঙ্গত, যারা মামলা করেছে তারা হচ্ছে জমিয়ত। জামায়াত নয়। আর জামায়াত হলেও জামায়াত কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়।

 এরপর পুলিশ পক্ষ জানায়, ‘রাজাবাজার স্পটটি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় ১১ আগস্ট, ২০২৬ মিছিল হবে শিয়ালদহ থেকে মৌলালি পর্যন্ত। তার আগে অবশ্য সরকার পক্ষের আইনজীবীরা শ্যামবাজার কিংবা হেদুয়ার দিকে মিছিল করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এরপর মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলে।

জমিয়ত প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ২০০০ মানুষ নিয়ে মিছিল হবে। পুলিশ এতেও আপত্তি করে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় মিছিলে ৭৫০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে তারা বড় মাইক ব্যবহার করতে পারবেন না। অবশ্য হ্যান্ড মাইক চলতে পারে। 

মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, আমরা খুশি যে আমরা মিছিল করার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছি। আমরা মূলত এসআইআর এবং ট্রাইব্যুনালে আরও বিচারক বাড়ানোর দাবি তুলেছি। বিচারাধীন নাগরিকদের ট্রাইব্যুনালে বহু ক্ষেত্রে বিচারকের পদ শূণ্য রয়েছে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। নইলে মানুষের দুর্দশা বেড়েই চলেছে। মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ আরও বলেন, এছাড়াও আমরা বর্তমানে যে সেনসাস বা জনগণনা চলছে যাতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ফর্ম নিজেই পূরণ করতে হবে, সে নিয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা মিছিলের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।