পুবের কলম, রায়পুর: হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য শেয়ার করার অভিযোগে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে ৭৫ বছর বয়সী বিশিষ্ট খ্রিষ্টান নেতা অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে। ছত্তিশগড় খ্রিষ্টান ফোরামের প্রধান অরুণ পান্নালালকে গত শুক্রবার রাতে রায়পুরের সিভিল লাইনস থানার পুলিশ হেফাজতে নেয়। বিজেপি নেতা অমিত চিমনানির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পান্নালালের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, 'হংসরাজ গোয়েল' নামে জনৈক ব্যক্তির মূল ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য পুন প্রকাশের জেরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, বৈষম্য এবং অধিকার রক্ষার দাবিতে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরুণ পান্নালাল। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর সংস্থা ‘ছত্তিশগড় খ্রিষ্টান ফোরাম’ সামাজিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রাখার কাজে যুক্ত।
অরুণ পান্নালালের গ্রেফতারির তীব্র সমালোচনা করেছে 'ইউনাইটেড খ্রিষ্টান ফোরাম'। সংস্থাটির জাতীয় কো-অর্ডিনেটর এসি মাইকেল এই আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। মাইকেল অভিযোগ করেন, "অরুণ পান্নালাল একটি সামান্য ভুল করেছেন—তিনি অন্য একজনের মন্তব্য শেয়ার করেছিলেন। শাস্তি যদি দিতেই হতো, তবে মূল মন্তব্যকারী হংসরাজ গোয়েলকেও গ্রেফতার করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের হওয়ায় পুলিশ তাঁকে স্পর্শও করেনি।" তিনি আরও বলেন, "৭৫ বছর বয়সী একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি, যিনি কয়েক দশক ধরে সমাজসেবা এবং সম্প্রীতির জন্য কাজ করছেন, তাঁকে সতর্ক করাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যারা দরিদ্র ও সংখ্যালঘুদের জন্য তাঁর কাজ পছন্দ করেন না, সেই রাজনীতিবিদরাই সুযোগ বুঝে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।"