ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। ঘটনায় শতাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে বিজেপি।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। একাধিক দফায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক এবং অনশন করেও কোনও সমাধান না মেলায় সোমবার বিধানসভা অভিযানের কর্মসূচি নেয় আন্দোলনকারীরা।
সোমবার সকাল থেকেই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া রাঁচিতে জড়ো হন।

তাঁদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজন হলে সিবিআই ও ইডির তদন্ত, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি JPSC ও JSSC-এর পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিধানসভা অভিমুখে মিছিল এগোতে শুরু করলে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাঁদের দাবি, কোনও পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা ছাড়াই পুলিশের পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ শুরু করা হয়।
ঘটনায় বহু পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে।
পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলের একাধিক নেতা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু বলেন, প্রতিবাদী পড়ুয়ারা তাঁদের সন্তানসম।
তাঁদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বন্‌ধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সমাধান না করে সরকার আন্দোলন দমনের পথ বেছে নিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি বাতিল এবং JPSC-JSSC-এর পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক দফায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়ে এখনও সমাধানসূত্র মেলেনি।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের অধিকাংশ দাবিই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে এবং একাধিক বিষয়ে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সিবিআই তদন্তসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে।
ফলে সোমবারের পুলিশি বলপ্রয়োগের পর ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার বিজেপির ডাকা বন্‌ধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে প্রশাসনের। একই সঙ্গে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে সরকার ফের আলোচনায় বসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।