পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: 'আজাদ হিন্দ পার্টি' নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যার মূল চালিকাশক্তি হবে বর্তমান প্রজন্মের যুবসমাজ বা জেন জি। এই দলের মেন্টরের দায়িত্বে থাকতে পারেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে প্রথম ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন নেতাজি। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে মাথায় রেখেই আগামী ২১ অক্টোবর নেতাজির জন্মস্থান ওড়িশার কটক থেকে নতুন এই দলের যাত্রা শুরু হতে চলেছে। দলের প্রথম কর্মসূচিও কটকেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
চন্দ্র বসুর পাশাপাশি নেতাজি-প্রেমী এবং গবেষকদের একটি গোষ্ঠীও এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির একদম পুরোভাগে রাখা হবে জেন জি-কে।
সম্প্রতি ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন চন্দ্র বসু। তৃণমূলের আগে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লক এবং দীর্ঘ সাত বছর বিজেপিতে ছিলেন। ২০১৬ সালে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি নেতাজির আদর্শে কাজ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আক্ষেপ, বিজেপিতে থেকে তা সম্ভব হয়নি কারণ তারা শুধুমাত্র নিজেদের আদর্শ নিয়ে কাজ করে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, তৃণমূলের হয়েও জাতীয় স্তরে নেতাজির আদর্শ প্রচারে বিশেষ সুযোগ না থাকায় তিনি নতুন দল গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দলের নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রতীক তৈরির কাজ শীঘ্রই ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
নতুন দল গঠনের এই ভাবনা চন্দ্র বসুর অনেক পুরনো। একসময় জাতীয় স্তরে তিনি ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে দেশে ইতিমধ্যেই ১৬০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাই নতুন দল না গড়ে তিনি যেন তাঁদের সঙ্গে থেকেই কাজ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সংক্রান্ত গোপন ফাইল প্রকাশ্যে আনায় তাঁর প্রশংসা করেছেন চন্দ্র বসু। তবে তাঁর মতে, শুধু অন্তর্ধান রহস্য বা গোপন ফাইল নিয়ে বিতর্ক না করে নেতাজির আদর্শকে সমাজে বাস্তবায়িত করা বেশি জরুরি।আরও পড়ুন:
দলের নেতৃত্বে জেন জি-কে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে দেশের সিস্টেম বা মানুষকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র জেন জি-র রয়েছে। দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলন তার বড় প্রমাণ। বাংলা, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ওড়িশা-সহ দেশের নানা প্রান্তের তরুণ সুভাষপ্রেমী ও গবেষকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ যোগাযোগ রয়েছে, যা তাঁকে এই নতুন দল গঠনের কাজে বিশেষভাবে উৎসাহ জোগাচ্ছে।