পুবের কলম, মালদহ: ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা মালদহের কালিয়াচকে অশান্তি ও বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। উত্তরবঙ্গের আইজি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোফাক্কারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। অন্যদিকে, কালিয়াগঞ্জের অশান্তি নিয়ে পুলিশ মোট ১৯টি মামলা দায়ের করেছে।
 
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে গত বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের সুজাপুর এলাকা।

১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (কলকাতা-শিলিগুড়ি) অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ চলে টানা রাত ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় আটকা পড়ে হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অবরোধকারীরা সরতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে চার দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেয় জনতা।

 
অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথে যানবাহন চালানোর চেষ্টা করে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, মালদহ সদরে আসার জন্য মোথাবাড়ি হয়ে ঘুরপথে আসার সময় বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন এসআইআর (SIR) কাজে যুক্ত সাতজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের গাড়ি আটকে রাখলে চরম হেনস্থার শিকার হন তাঁরা। আটকে পড়া বিচারকদের মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

 
মালদহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা দফায় দফায় অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও দীর্ঘক্ষণ কোনো সুরাহা হয়নি। কালিয়াচকের পাশাপাশি মালদহের আরও একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ চলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। আইজি উত্তরবঙ্গ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া বা উস্কানিমূলক প্রচার চালিয়ে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আরও ব্যক্তিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।