পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলের ভেতরের বেনোজল দূর করতে এবং দলবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে এবার কড়া শুদ্ধিকরণের পথে হাঁটছে বঙ্গ বিজেপি। নিচুতলায় তোলাবাজি রুখতে ইতিমধ্যেই আড়াইশোর বেশি নেতা-কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় এবার সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে রাজ্য নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে না পারা এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে খুব শীঘ্রই অন্তত ১২ জন জেলা সভাপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা সভাপতিদের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ২০০-র বেশি মণ্ডল সভাপতিকেও বদল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে সদ্য অন্য দল  থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের কোনওভাবেই টিকিট দেওয়া হবে না। হাওড়া, হুগলি, আসানসোল এবং দুই ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলি থেকে এই ‘হঠাৎ বিজেপি’ হওয়া নেতাদের দাদাগিরি নিয়ে লাগাতার অভিযোগ আসছিল। তাছাড়া হাওড়া ও হুগলিতে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ আরএসএস-ও।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংগঠনকে মজবুত করতে আগামী ২২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় জেলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে রাজ্য বিজেপি। তার আগে ১৬ আগস্ট বিজেপির সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক শিবপ্রকাশ এবং রাজ্য পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের উপস্থিতিতে বক্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দলীয় সূত্রে খবর, এই প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি শেষ হওয়ার পর আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই জেলা সভাপতি বদলের এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কার্যকর করা হবে।