পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের মণিপুরে জাতিগত হিংসা সম্পর্কিত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুটি পৃথক বিচার আদালত গঠন করা যায় কি না—তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের একটি বেঞ্চ এই পরামর্শ প্রদান করে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রস্তাব দেয়, গঠিত একটি আদালত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দ্বারা তদন্তকারী মামলাগুলি এবং অপর আদালতটি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার অধীনে থাকা মামলাগুলির একচ্ছত্র বিচার পরিচালনা করতে পারে।
 
শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত জানতে চায়, মণিপুর হিংসার বিচারকারী বর্তমান আদালতগুলি কেবল সিবিআই ও এনআইএ-র মামলাই পরিচালনা করছে, নাকি সেগুলির পাশাপাশি অন্য মামলার শুনানিও শুনছে। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে কোনো ধরনের বাধাবিঘ্ন ছাড়া নির্বিঘ্নে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

আদালত জানিয়েছে, সিবিআই ও এনআইএ-র তদন্তকারী আধিকারিকদের অবাধ কাজ নিশ্চিতে উপযুক্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মনিপুরে ছড়িয়ে পড়া ওই রক্তক্ষয়ী জাতিগত সহিংসতার মামলাগুলি এ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট, গুয়াহাটি হাইকোর্টের বেঞ্চ এবং মণিপুরের স্থানীয় আদালতসমূহে পরিচালিত হয়ে আসছে।
 
শুনানিকালে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য আদালতে পেশ করা হয়। তাতে জানানো হয়, সংস্থাকে হস্তান্তরিত মোট ৩১টি মামলার মধ্যে ২৭টিতে তারা তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাদের অধীনে থাকা ৩০টি মামলার মধ্যে ১৫টিতে তারা চার্জশিট বা অভিযোগপত্র পেশ করেছে।