পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ক্যানসার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্যানসারকে এখনও বাধ্যতামূলক আইনি বিজ্ঞাপিত ব্যাধি বা ‘নোটিফায়েবল ডিজিজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি, তাদের অবিলম্বে তা বিবেচনা করার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দেশজুড়ে ক্যানসার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট নীতি চালুর ওপর বিশেষ জোর দেন।
সমগ্র দেশে ক্যানসারকে বিজ্ঞাপিত রোগ হিসেবে ঘোষণার আর্জি জানিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চায়, কেন সারা দেশে এই বিষয়ে কোনো অভিন্ন নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে না।
আদালত তার আদেশে উল্লেখ করে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৩৯তম প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকেও এই সুপারিশ বিবেচনা করে দ্রুত উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে এবং এ বিষয়ে কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিট দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সংসদীয় কমিটির ১৩৯তম প্রতিবেদন—‘ক্যানসার কেয়ার প্ল্যান অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট: প্রিভেনশন, ডায়াগনোসিস, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবিলিটি অব ক্যানসার ট্রিটমেন্ট’-এ ক্যানসারকে বাধ্যতামূলক বিজ্ঞাপিত ব্যাধি হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করে, বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণে ক্যানসারে মৃত্যুর বহু ঘটনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ না লিখে কেবল ‘কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেলিয়ার’ হিসেবে মৃত্যুর কারণ লিখে দেওয়া হয়। ক্যানসারকে বিজ্ঞাপিত রোগ ঘোষণা করলে দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব এবং মৃত্যুর একটি সঠিক ও শক্তিশালী ডাটাবেস তৈরি করা সম্ভব হবে।