পুবের কলম, নয়াদিল্লি

প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ বা এফসিআরএ বিল নিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বার বিলের প্রস্তাবিত সংশোধন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখলেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। এই নিয়ে উত্তর-পূর্বের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিলটি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন। এর আগে মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও আপত্তি জানিয়েছিলেন।

৯ আগস্ট অমিত শাহকে লেখা তিন পাতার চিঠিতে রিও জানান, খ্রিস্টান নেতা, নাগাল্যান্ড ব্যাপটিস্ট চার্চ কাউন্সিল (এনবিসিসি) এবং কোহিমার বিশপের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে চার্চ ও খ্রিস্টান সংগঠনগুলির বিভিন্ন কাজ এবং মানবিক পরিষেবা চালাতে সমস্যা বাড়তে পারে। সোমবার এক্স-এ রিও বলেন, বর্তমান রূপে সংশোধনগুলি কার্যকর হলে নাগাল্যান্ডের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিষেবার বিভিন্ন কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রত্যন্ত ও আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষের জন্য কাজ করা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলি বেশি সমস্যায় পড়তে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

তাই বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কাছে পাঠানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে গত ৬ আগস্ট মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা খ্রিস্টান নেতাদের প্রতিনিধিদল নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলেন। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও গত মাসে চার্চ নেতাদের নিয়ে শাহের সঙ্গে দেখা করেন। নাগাল্যান্ডের ৮৭.৯৩ শতাংশ, মিজ়োরামের প্রায় ৮৭ শতাংশ এবং মেঘালয়ের ৭৪ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান।

ফলে এই রাজ্যগুলিতে বিলটি নিয়ে উদ্বেগ বেশি। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব চার্চেস ইন ইন্ডিয়াও (এনসিসিআই) আবেদন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিলের ধারা পর্যালোচনা ও সংশোধনের পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত এটি পাশ না করা হোক।

এদিকে সোমবার শিলংয়ে মেঘালয় কংগ্রেস বিল প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল করে। দলটির অভিযোগ, সংশোধন কার্যকর হলে বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল স্কুল, হাসপাতাল, চার্চ, এনজিও ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নতুন এফসিআরএ নিয়মে বিদেশি অনুদান পাওয়া এনজিও ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের কাজের ধরন এবং কর্মসূচি কোন কোন এলাকায় পরিচালিত হয়, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কাতেই আপত্তি জানাচ্ছেন উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন মহল।