পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অনুপ্রবেশের জেরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং বহিরাগতদের জমি দখলের মতো জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার কড়া আইন আনার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় আয়োজিত একটি প্রশাসনিক সভায় ধর্মান্তরকরণ এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইন আনার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক এক বছর আগে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'ল্যান্ড জেহাদ' সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাঁকুড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের একাধিক গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়া, অবৈধ ওবিসি তালিকা বাতিল এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

পাশাপাশি, গোমাতার সম্মান রক্ষা এবং মহরমে তলোয়ার প্রদর্শন বন্ধ করার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, খুব শিগগিরই রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি আসতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সরকারের আর দুটি প্রধান কাজ বাকি রয়েছে ধর্মান্তরকরণ রোধ এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কড়া আইন প্রণয়ন।

নতুন জমি আইনে ঠিক কী ধরনের নিয়ম থাকবে, সে বিষয়ে এদিন স্পষ্ট বিস্তারিত তথ্য না মিললেও, প্রতিবেশী রাজ্য অসম বা ওড়িশার মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজেপি শাসিত অসমে সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়া ভিন ধর্মের মানুষের কাছে জমি বিক্রি করা যায় না। জমি হস্তান্তরের আগে ক্রেতার আয়ের উৎস এবং এর ফলে এলাকার সামাজিক সংহতি বিঘ্নিত হবে কি না, তা সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে। অবস্থানগত দিক থেকে অসম ও বাংলার ভৌগোলিক মিল থাকায়, আগামী দিনে এই রাজ্যেও একই রকম কড়া আইন বলবৎ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।