পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ নামে এক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাঁকে জেরা করে কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে তাঁর এক সঙ্গীকেও ধরা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, রানা আদতে পাক সেনার সঙ্গে যুক্ত এবং আইএসআইয়ের 'হ্যান্ডলার' হিসেবে মূলত কাঠমান্ডু থেকে তাঁর কার্যকলাপ চালাতেন। সম্প্রতি তিনি কাঁকড়ভিটা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

রানার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রেলের পরিকাঠামো সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা পাকিস্তানে পাঠানো। এর আগেও তিনি একাধিকবার ছদ্মবেশে ভারতে ঢুকেছেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কলকাতায় তপসিয়া এলাকায় ওয়াহাব নাম নিয়ে টুকটাক কাজের আড়ালে বসবাস করছিলেন রানা। ইজাজের সাহায্যে তিনি আধার-সহ একাধিক ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছিলেন। তথ্য পাচারের পাশাপাশি তাঁদের অন্য কোনও বড় নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, রাজ্যে আইএসআইয়ের তৎপরতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সতর্ক রয়েছে পুলিশ। গত ৩০ জুলাই জঙ্গিযোগ এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। আইএসআই এবং পাক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। এমনকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেই তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন নেতা ও আমলাদের 'হানিট্র্যাপ'-এ ফেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করত অর্পিতা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক আইএসআই চরের গ্রেফতারে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।