পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কোচবিহারের নেতা অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া বিতর্কে জল ঢালতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশনায়ককে সম্মান জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের সমস্ত বিধায়ক সেবা কেন্দ্রের নাম এবার থেকে 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র' রাখা হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি সমস্ত প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় এই কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলি পরিচালনার জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হবে সরকারের তরফ থেকে।

বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী অগস্ট মাস থেকেই এই প্রকল্প চালু হবে।

তবে এই টাকা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, অফিসের নাম নেতাজির নামে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফ থেকে দেওয়া ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির একটি নির্দিষ্ট ছবি সেই কার্যালয়ে আবশ্যিকভাবে রাখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই শর্তগুলি পূরণ না হলে কোনও টাকা দেওয়া হবে না। গোটা বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের নজরদারিতে থাকবে।
আগামী অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীকে দিয়ে এই সংক্রান্ত সংশোধনী পাশ করানো হবে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি এলাকায় বিধায়ক সেবা কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। বর্তমানে অনেক বিরোধী বিধায়কও সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এমন অফিস চালান। এবার রাজ্যের সব বিধানসভার সেবা কেন্দ্রকেই এই আর্থিক অনুদান ও নামকরণের আওতায় আনা হল। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে বিজেপিকে নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে নেতাজির নামে সেবা কেন্দ্র খোলার এই ঘোষণাকে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক 'মাস্টারস্ট্রোক' হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।