বিরোধীদের প্রবল আপত্তির মধ্যেই ‘বিতর্কিত’ FCRA সংশোধনী বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বিলটি দ্রুত পাশ না করিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য জেপিসিতে পাঠানোর প্রস্তাব বুধবার লোকসভায় পেশ করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ধ্বনিভোটে সেই প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়।

বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে গোটা বিরোধী শিবির। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, বিরোধীরা বিলটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

তাঁর অভিযোগ, সরকার যে সমস্ত বিল এনেছে, তার মধ্যে সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী বিষয় রয়েছে। পাল্টা রিজিজু চ্যালেঞ্জ করেন, বিলের কোন ধারাটি সরাসরি সংখ্যালঘু-বিরোধী তা দেখাতে।

চলতি বছরের ২৫ মার্চ সংসদে বিলটি পেশ করা হলেও এখনও তার উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। প্রস্তাবিত সংশোধনীর কয়েকটি ধারা নিয়েই মূলত বিরোধীদের আপত্তি। তাঁদের আশঙ্কা, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি হারালে সেই অর্থে তৈরি স্কুল, হাসপাতাল বা উপাসনালয়ের মতো সম্পত্তি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে।

বিশেষ করে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা ছাড়াই এই প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

কেন্দ্রের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। সরকারের দাবি, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্যই FCRA আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে, যাতে বিদেশি অর্থ জঙ্গি কার্যকলাপ বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না হয়। জনকল্যাণমূলক কাজে বৈধ বিদেশি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনও বাধা তৈরি করতে চাইছে না বলেও জানানো হয়েছে।

বিলটি নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে কেন্দ্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ সরকারের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকা ও জার্মানির মতো কয়েকটি দেশ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

তবে বিরোধীদের দাবি ছিল, বিলটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, জেপিসিতেও বিজেপি-এনডিএর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় শেষ পর্যন্ত সরকারের পছন্দের শর্তই বিলের মধ্যে যুক্ত হতে পারে। সেই দাবি না মেনে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এখন জেপিসির পর্যালোচনা ও সুপারিশের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।