পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:বার রাতে কলকাতার নীলরতন সরকার (এনআরএস) হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এক নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম রূপালি। দমদমের বাসিন্দা ওই নার্স হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-তে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন রাত ৮টায় তিনি ডিউটিতে যোগ দেন।
এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ শৌচালয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনও সাড়া না পেয়ে শেষে দরজা ভেঙে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই নার্সের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন বা ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি, তবে পাশেই পড়ে ছিল তাঁর মোবাইল ফোন।আরও পড়ুন:
হাসপাতাল সূত্রে খবর, কাজে যোগ দেওয়ার পর রোগীদের ঘুম পাড়ানোর ওষুধ ‘ফেন্টানিল’-এর তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে ঢুকেছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তিনি নিজের কনুইয়ের শিরায় ওই ওষুধ ইনজেক্ট করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এটি করলেন বা তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মৃতার স্বামী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এনআরএস হাসপাতালে যেন তাঁর স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত না করা হয়। তাঁর আপত্তির কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী অন্য জায়গাতেই ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।আরও পড়ুন:
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুণাল অগ্রবাল এবং ডিসি (পূর্ব শহরতলি) সুবিমল পালের নেতৃত্বে লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি দলও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এন্টালি থানায় যাওয়ার পরেই ময়নাতদন্ত ঠিক কোথায় হবে, সেই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।