পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দেশের অন্যতম ধনী ও শিল্পোন্নত রাজ্য মহারাষ্ট্রে গত পাঁচটি অর্থবর্ষে ৩৬,০০০-এরও বেশি বেসরকারি সংস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসভায় কেন্দ্র সরকারের পেশ করা এক তথ্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই শাসকদলকে নিশানা করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যাপক দুর্নীতি এবং ব্যবসার প্রতিকূল পরিবেশের কারণেই এই গণহারে ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। সংসদে শিবসেনা দলের লোকসভা সাংসদ রাজাভাউ ওয়াজের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক এই লিখিত তথ্য পেশ করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে মহারাষ্ট্রে মোট ৩৬,২১১টি বেসরকারি সংস্থা অবলুপ্তি, গুটিয়ে নেওয়া এবং বন্ধ হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সার্ভিস সেক্টরে। প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১৪,৬১৩টি সংস্থা বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও উৎপাদন, খনি ও কোয়ারির ৬,৫৮২টি, বাণিজ্যিক খাতের ৪,১৯৬টি, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সেবার ৩,৩৬১টি, নির্মাণ খাতের ২,৩৫৬টি, সঞ্চয় ও যোগাযোগের ১,৩৩৬টি, কৃষি ও আনুসঙ্গিক খাতে ১,১৭৮টি, রিয়েল এস্টেট ও ভাড়ানির্ভর ব্যবসার ১,১৪৯টি, অর্থনৈতিক খাতের ১,০১২টি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জল খাতের ৩৮৭টি এবং বিমা খাতের ৪১টি সংস্থা বন্ধ হয়েছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মুম্বাই সিটি, পুণে ও থাণে জেলাতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এই তিনটি অঞ্চল মিলিয়ে বন্ধ হওয়া সংস্থার সংখ্যা ২৩,১৪৬, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৪ শতাংশ। জেলাভিত্তিক হিসেবে মুম্বাই সিটিতে সবচেয়ে বেশি ১২,০০৯টি, পুণেতে ৬,৪৩৩টি এবং ঠাণেতে ৪,৭০৪টি কোম্পানি বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও নাগপুরে ১,৪৭৮, নাসিকে ৮৪০, রায়গড়ে ৮২২, ঔরঙ্গাবাদে ৬৫৪ এবং কোলহাপুরে ৪২৯টি সংস্থা বন্ধের মুখ দেখেছে। 'অন্যান্য' ক্যাটাগরিতে ৫,৬৩৬টি সংস্থা নথিভুক্ত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই লোকসভার সাংসদ রাজাভাউ ওয়াজে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বিজনেস সার্ভিসেস ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলি সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে। সেখান থেকে এই বিশাল সংখ্যক কোম্পানির বিলুপ্তি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।"