পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ড মামলায় ছয়জন মুসলিম অভিযুক্তের বেকসুর খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে চলেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের পক্ষে বিশেষ কাউন্সেল রজত নায়ার। বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং বিচারপতি বিকাশ মহাজনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। এই মামলায় ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত দুই অভিযুক্ত—নাজিম ও কাসিম—তাদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। শুনানি চলাকালীন বিশেষ কাউন্সেল রজত নায়ার আদালতকে বলেন, "রাজ্যও উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যে ছয়জন অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হয়েছিল, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া চলছে।" আদালত পুলিশ পক্ষের এই বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে এবং নাজিম ও কাসিমের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করে। বিষয়টি পরবর্তী বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।এর আগে, গত ১৩ জুলাই নিম্ন আদালত এই মামলায় আম আদমি পার্টির (আপ) প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেনসহ মোট পাঁচজনকে অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে। তাহির হুসেনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাহির ছাড়াও নাজিম, কাসিম, জাভেদ এবং আনাসকে একই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হলেও অপর ৬ জন অভিযুক্তকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে অঙ্কিত শর্মার বাবা রবীন্দ্র কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর রুজু করা হয়েছিল। রবীন্দ্র কুমার জানান, তৎকালীন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনকারী ও বিরোধীদের আন্দোলনের সময় চান্দ বাগ পুলিয়া এলাকায় তীব্র হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন কাউন্সিলর তাহির হুসেনের অফিস থেকেই উন্মত্ত জনতা জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা ছুড়েছিল এবং ছাদে থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গৃহস্থালির জিনিস কিনতে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি অঙ্কিত। পরবর্তীতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে খাজুরি খাস নর্দমা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।