পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে বঙ্গবিভূষণ সম্মান খুইয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। সম্মান হারানোর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়ল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। নেতাজি সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ফরওয়ার্ড ব্লকের এক সমর্থকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোচবিহারের পুলিশ সুপার মণীশ জোশী জানিয়েছেন, গত ৭ আগস্ট দায়ের হওয়া ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

সম্প্রতি অনন্ত মহারাজ মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না এবং তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিচার করে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় যে, অনন্ত মহারাজের কার্যকলাপ বঙ্গবিভূষণ সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই ২০২১ সালে তাঁকে দেওয়া এই সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

 সম্মান হারানোর পরেই বৃহস্পতিবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন অনন্ত মহারাজ।

সতেরো সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং এর ফলে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
তবে ক্ষমা চেয়েও আইনি জটিলতা থেকে রেহাই পাননি অনন্ত মহারাজ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ফরওয়ার্ড ব্লক সমর্থক গোপাল দে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নেতাজির মতো বিশ্ববরেণ্য নায়ককে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অনন্ত মহারাজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর সাংসদ পদ বাতিল এবং অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

 পুলিশ সূত্রে খবর, নেতাজিকে অবমাননার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কোচবিহার থেকে মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে পেশায় শিক্ষক উত্তম বর্মন নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেও, ধৃত পিন্টু রায় ও কৃষ্ণ কার্জি নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়।